in

এই অ্যাপগুলো আপনার উঠতি বয়সী সন্তানের জন্য কতটা উপকারী?

একটা সময় প্রযুক্তি বলতে আমাদের কাছে পরিচিত ছিল কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি। একটু একটু করে আরো অনেক ভিন্নতা এলো প্রযুক্তি খাতে। আর এখন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ও নতুন প্রজন্মের হাতে প্রযুক্তির যে দিকটি সবচাইতে বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে, সেটি হলো অ্যাপ। শরীরচর্চা থেকে শুরু করে টাকা জমানো, বিনোদন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যাপার- আমাদের জীবনের প্রায় সবগুলো ক্ষেত্রকেই জুড়ে রয়েছে এই অ্যাপগুলো। কিন্তু এই অ্যাপের সবগুলোই কি আমাদের জন্য উপকারী? বিশেষ করে, কিশোর-কিশোরীদের জন্য তৈরি করা অ্যাপগুলো তাদের জন্য কোনো বিপদ ডেকে আনছে না তো?

এই অ্যাপের সবগুলোই কি আমাদের জন্য উপকারী? Image Source: backpacker.com

না, এখানে আমাদের খুব পরিচিত কিছু অ্যাপ যেমন ফেসবুক, মেসেঞ্জার, পিন্টারেস্ট ইত্যাদির কথা বলা হচ্ছে না।

হাউজপার্টি

এক কথায়, হাউজপার্টি হলো অনেকজন মানুষ একসাথে স্কাইপ বা ফেসটাইমে কথা বলার
মতো একটি ব্যাপার। এই অ্যাপটি ডেস্কটপ, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন থেকে ব্যবহার করা
সম্ভব। স্কুল বা কলেজের বাইরে একে অন্যের সাথে অনেকটা সময় কথা বলার জন্য বা আড্ডা
দেওয়ার জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করা হয়।

এটি কি নিরাপদ?

এই অ্যাপে আপনি শুধু আপনার বন্ধু নয়, বরং বন্ধুদের বন্ধুর সাথেও কথা বলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্য আপনাকে ‘স্ট্রেঞ্জার ডেঞ্জার’ নামের একটি লেখা দেখানো হবে। ব্যবহারকারী অ্যাপে কার কার সাথে কথা বলবেন, কোন ধরনের মানুষের সাথে কথা বলতে চান না সেটাও ঠিক করে দিতে পারবেন। তবে অ্যাপের একটি নেতিবাচক দিক হচ্ছে কেউ কেউ এটি ব্যবহার করার মাধ্যমে সবার সাথেই কথা বলার সুযোগ পাবেন। সরাসরি ভিডিওতে কথা বলার ব্যাপারটি অনেক বিশেষজ্ঞের মতেই বিপদজনক হতে পারে। এখানে অনুচিত কোনো আচরণ করলে ব্যবহারকারীকে খুঁজে ফেলার একটি উপায় অবশ্য রাখা হয়েছে। আর সেটি হলো রেজিস্ট্রেশনের সময় হাউজপার্টিতে নিয়ে নেওয়া ব্যক্তির ফোন নম্বর।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সরাসরি ভিডিওতে কথা বলার ব্যাপারটি বেশ বিপদজনক; Image Source: cdn.vox-cdn.com

তবে অনেকের মতে, এই ফোন নম্বর ব্যবহার করা সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে সক্ষম নয়। ২০১৭ সালেই হাউজপার্টি ব্যবহারের মাধ্যমে একজন পুরুষ দুজন ১১ ও ১২ বছর বয়সী শিশুকে বাকি ব্যবহারকারীদের কাছে বাজেভাবে উপস্থাপন করে। এটি তাই নানাভাবে শিশুদের জন্য বাজে ফলাফল নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করা হয়। এ নিয়ে এখনো অব্দি পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

কিক

কিক প্রায় এক যুগ ধরে সবার কাছে বেশ জনপ্রিয় একটি টেক্সট ম্যাসেজিং অ্যাপ
হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে, কিশোর-কিশোরীদের জন্য এই অ্যাপটি অত্যন্ত
সহজপ্রাপ্য। কারণ, কিক সাইন আপ করার জন্য কোনো তথ্য বা ফোন নম্বর চায় না। যেটি
একইসাথে একে বাচ্চাদের কাছে জনপ্রিয় ও তাদের জন্য ভয়ংকর করে তোলে।

এটি কি নিরাপদ?

অবশ্যই কিকের ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে খুব একটা তথ্য না থাকা একে সবার জন্য বিপদজনক করে তোলে। এখানে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই কোনো সুত্র না রেখে শিশুদের আজেবাজে ছবি ও কথা বলতে পারে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সোসাইটির একটি তদন্তে পাওয়া যায় যে, গত বছর যতগুলো পদ্ধতিতে শিশুদের নির্যাতন করা হয়েছে তার মধ্যে কিকের অবস্থান সপ্তম। প্রথম কয়েকটির নাম অবশ্য ছিল যথাক্রমে- ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, ইন্সটাগ্রাম, টেক্সট ম্যাসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেস-টু-ফেস। আর যদি শিশু নির্যাতন নাও করা হয়, এটি ব্যবহারের মাধ্যমে তারা লাঞ্চিত করা হচ্ছে অনেক বেশি।

টিকটক

টিকটকের অধিকাংশ ব্যবহারকারীই শিশু বা কিশোর; Image Source: content.thriveglobal.com

বর্তমান সময়ে টিকটকের সাথে পরিচিত নন এমন খুব কম মানুষ আছে। বিশেষ করে উঠতি
বয়সীরা এই অ্যাপ অনেক বেশি ব্যবহার করছে। ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ হিসেবে সবচাইতে
এগিয়ে আছে এখন এটি। টিকটকের প্রথম নাম ছিল মিউজিক্যাল.লি। এটি সবাইকে পছন্দের গান, সংলাপ ইত্যাদির সাথে ঠোঁট
মেলানোর বা লিপসিং করার সুযোগ করে দেয়।

এটি কি নিরাপদ?

টিকটকের অধিকাংশ ব্যবহারকারীই শিশু বা কিশোর। বিশেষজ্ঞরা এক্ষেত্রে শিশুরা এই অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের বয়সের অনুপযোগী কোনো ব্যাপারে লিপসিং করছে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত। কারণ এই অ্যাপে এমন কিছু করার উপায় নেই। অনেকদিন ধরেই অ্যাপটি নেতিবাচক নানা সংবাদের অংশ হয়ে আসছে।

টুইচ

টুইচকে আগে মানুষ চিনতো জাস্টিন.টিভি নামে। এটি
ভিডিও গেম সম্প্রচারের অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্থান। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে
ব্যবহারকারীরা শুধু ক্যামেরা দিয়ে খেলতেই পারেন না, একইসাথে ভিডিওর পাশাপাশি নিজের
ভক্তদের সাথে কমেন্ট কথাও বলতে পারেন।

এটি কি নিরাপদ?

টুইচের সবচাইতে বড় সমস্যাটি হলো, এটি প্রায় অধিকাংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই সহজপ্রাপ্য। তাই এখানে কারো যদি অফলাইনেও কথা বলার বা বাজে কোনো কাজ করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে টিউচের বাইরে গিয়েও সে সেটা করতে পারে। এছাড়া এতে একটি টেক্সট দেওয়ার সময় ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ‘ডিসকর্ড’ নামক অ্যাপ দেওয়া আছে। এখানে একসাথে কয়েকশ মানুষের সাথে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে এতোজন মানুষের সাথে কথা বলার সময় নেতিবাচক কোনো ব্যাপার চলে আসছে কিনা সেটা খেয়াল রাখা অনেক ক্ষেত্রেই শিশু-কিশোরদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

এটি ভিডিও গেম সম্প্রচারের অন্যতম জনপ্রিয় একটি স্থান; Image Source: cdn-images-1.medium.com

আপনার সন্তানকে নিয়ে চিন্তিত? চিন্তা না করে তাকে ভালোভাবে এই অ্যাপগুলো সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন। নিজে সতর্ক থাকুন, সন্তানকেও সতর্ক করুন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments