in

অ্যাপের কাছে আমরা কতটা সুরক্ষিত?

প্রযুক্তিক্ষেত্রে বর্তমানে যে সমস্যাটি সবচাইতে বেশি দেখা যাচ্ছে সেটি হলো বিশ্বাসের অভাব। নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান হয়ে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা। প্রযুক্তি পণ্য, সেটা মোবাইল হোক বা অন্য কিছু, তথ্য সুরক্ষিত থাকছে কিনা তা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন উঠছে। আর হ্যাঁ, নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের এই সন্দেহ কিন্তু অমূলক নয়। বাস্তবেই অনেক কোম্পানি নিজেদের তথ্য প্রকাশ করে দিচ্ছেন, কিংবা না চাইতেও তাদের তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরে মানুষের ভরসা কমে যাচ্ছে।

স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করার মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য ও অবস্থান জেনে ফেলছে অনেক প্রতিষ্ঠান – এমন খবর এবং তার প্রমাণের খবর তো নিশ্চয়ই আপনিও শুনেছেন। এমতাবস্থায় অ্যাপলের মতো অনেক কোম্পানি নিজেদের পণ্যকে বিক্রি করছে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চয়তাকারী হিসেবে।

স্মার্টফোনের অ্যাপ ব্যবহার করার মাধ্যমে ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য ও অবস্থান জেনে ফেলছে অনেক প্রতিষ্ঠান; Image Source: betanews.com

মূলত, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন নতুন নতুন ফিচার এবং অ্যাপ ব্যবহার করেন ফোনে। প্রত্যেকবার তাই তাদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয় না এবং অনুমতি নেওয়া হয় না। কিন্তু সেলুলার ফোন, স্মার্টফোন নির্মাণকারী, অ্যাপ ডেভলপার এবং সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো দাবী করে যে, তারা এই তথ্যগুলো নেওয়ার সময় ব্যবহারকারীদের অনুমতি নিয়ে নেয়।

এখানে সবচাইতে সমস্যার ব্যাপারটি হলো এই যে, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী জানেনই না যে, তাদের তথ্য কীভাবে অন্য কারো হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রযুক্তিখানে কাজ করে চলা কোম্পানিগুলোও পদক্ষেপ নেয়নি। অনেকসময়, ইচ্ছাকৃতভাবেই তারা এই কাজটি থেকে বিরত থাকে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, মানুষের এই ব্যক্তিগত তথ্যগুলো অনেক কোম্পানির আয়ের একটি মাধ্যম।

ব্যবহারকারীদের সম্মতি নেওয়া হয় কীভাবে?

যেকোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করার সময় বা অ্যাপ ইনস্টল করার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটি লেখা চলে আসে যে, আপনি সেই সফটওয়্যারের সমস্ত শর্তে সম্মতি দিচ্ছেন কিনা। কিছু ক্ষেত্রে সেখানে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর সুযোগ থাকলেও, অনেকসময়ই ব্যবহারকারীর শর্তে সম্মতি দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। আর কারো অতটা সময় ও ধৈর্য থাকে না সবগুলো শর্ত পড়ার। অনেকসময় সাধারণ শর্তের ভেতরেও অনেক লুকানো শর্ত থাকে। ফলে উপরে উপরে ‘আমরা আপনার তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি’ বলা হলেও, এর আড়ালের বাস্তবতাটা একেবারেই আলাদা হয়ে দাঁড়ায়।

অনেকসময় সাধারণ শর্তের ভেতরেও অনেক লুকানো শর্ত থাকে; Image Source: cdn-images-1.medium.com

কোনো প্রতিষ্ঠান বলতেই পারে যে, তাদের সমস্ত শর্ত পড়ার পর সম্মতি দিতে। কিন্তু সেটা বাস্তবে করাটা যে সম্ভব নয় সেটা তারাও জানে। এমন না যে, কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার ব্যাপারটি দেখতে পারে না। তবে কোনো কোম্পানি এমনটা করতে গেলে প্রযুক্তি খাতে যে প্রতিযোগিতা নিয়মিত চলে আসছে, সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে তাকে।

তৃতীয় পক্ষকে তথ্য বিক্রি করার প্রথা: কতটা ভয়ংকর?

অনেক সময় অ্যাপল বা গুগলের মতো মোবাইল প্ল্যাটফর্ম কোম্পানিগুলো নিজেদের তথ্যের উপরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ দিয়ে থাকে। যেমন এই দুই কোম্পানির মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমেই ব্যবহারকারীরা অবস্থান খুঁজে পাওয়ার জন্য যে জিপিএস ব্যবহার করা হয়, সেটি বন্ধ রাখতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় আপনার অবস্থান সবসময় কেউ অনুসরণ করতে পারবে না, এমনটাই তো হওয়া উচিত, তাই না? বাস্তবে, এমনটা সবসময় হয় না। এমনকি আপনার মোবাইল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আপনার ফোনের অবস্থান তৃতীয় কারো কাছে প্রকাশ করে দিলে, সেক্ষেত্রেও এটি খুব একটা কার্যকরী ভূমিকা পালণ করতে পারে না।

অনেক IOS অ্যাপের ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীকে কয়েকটি অপশন দেওয়া হয়। এর মধ্যে থাকে, কখন অ্যাপ ব্যবহারকারীর অবস্থান ও তথ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। সেটা সবসময়, কখনো না এবং অ্যাপ ব্যবহার করার সময়- এই তিনটি ভাবেই হতে পারে। কিন্তু এখানে সমস্যা হয়ে যায় অ্যাপের কার্যকারিতা নিয়ে। অ্যাপ যদি আপনার অবস্থান ও আপনার তথ্যগুলো না জানতে পারে, তাহলে আপনাকে আরো ভালো সেবা সেটি দিতে পারবে না। আর এটি ব্যবহার করলেও আপনি কোথায় যাচ্ছেন, সাধারণত কোন স্থানে যান বা কী খান, আপনার সম্পর্ক- এই সবকিছু সম্পর্কে জানতে পারবে। যেটি কখনো কখনো ব্যক্তির জন্য ভয়ংকর ফলাফল নিয়ে আসতে পারে।

মানুষ কেন এই সমস্যাটিকে এড়িয়ে চলে না?

অ্যাপ ব্যবহারের শুরু থেকে ব্যবহারকারীর অবস্থান দেখার সুযোগ থাকে; Image Source: images.ctfassets.net

মানুষ চাইলেও অনেক সময় ওয়েবসাইট ও অ্যাপের এই জাল থেকে বের হতে পারে না। অনেকেই তার নিজের তথ্য প্রকাশ করলে যে বড় কোনো সমস্যা হতে পারে তাই জানেন না। অনেকে, এই একটি ছাড়াও যে অন্য কোনো উপায় রয়েছে কোনো অ্যাপ ব্যবহারের, সেটা সম্পর্কে অবগত থাকেন না। অনেক সময় অ্যাপ ব্যবহারের শুরু থেকে ব্যবহারকারীর অবস্থান দেখার সুযোগ থাকে। সেটাকে বন্ধ করার জন্য যে চেষ্টাটুকু, সেটা আলস্য থেকেই অনেকে করেন না।

এড়িয়ে চলার উপায়

সমস্যা যখন আছে, তখন এর সমাধানও আছে। গবেষকদের মতে, মানুষ এভাবে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য জানাতে পছন্দ করে না এবং আগে থেকে এ নিয়ে জানা থাকলে এ ব্যাপারে তারা সতর্কতাও নিয়ে থাকে। এমনকি এই নিরাপত্তার জন্য যদি টাকা প্রদান করতে হয়, ব্যবহারকারীরা সেই টাকাটুকুও খরচ করতে আগ্রহী। তবে তেমন কোনো পদ্ধতি না আসা পর্যন্ত।

ফেসবুক মোবাইলের মতো জিনিসগুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন; Image Source: media.wired.com

১। নিজের আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের লোকেশন সার্ভিস বন্ধ করে রাখুন।

২। শুধু তখনই এই সেবা নিন যখন আপনার কাজের তাগিদেই অবস্থান জানা প্রয়োজন যেমন গুগল ম্যাপ ব্যবহার করার সময়।

৩। ফেসবুক বা এমন অ্যাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এটি আপনার খুঁটিনাটি অনেক তথ্য সম্পর্কেই তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

তাই, সতর্ক থাকুন এবং সতর্কতার সাথে প্রযুক্তি পণ্যগুলো ব্যবহার করুন। আপনার নিরাপত্তার অনেকটা নিয়ন্ত্রণ আপনার নিজের হাতে। এই নিয়ন্ত্রণ যতটা সম্ভব বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments