in

ফিন্যান্স অ্যাপগুলো কি আদৌ আমাদের খরচ কমাতে সাহায্য করছে?

টাকা-পয়সা সংক্রান্ত অ্যাপগুলো অনেক ভালো কাজ করছে। এই অ্যাপের ব্যবহারকারীর পরিমাণ অনেক বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু তাতে কি আদৌ আমাদের কোনো লাভ হচ্ছে? এই অ্যাপ ব্যবহারকারীরা কি টাকা জমানোর ক্ষেত্রে, কম খরচের ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি করেছেন? চলুন, আজ বিশদভাবে সেটাই দেখে নেওয়া যাক!

২৮ বছর বয়সী কেরি হাডসন নিজের মায়ের সাথে ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করেছেন। ঘরহীন, খাবার না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছিল তাদের একটা সময়। পড়াশোনা করেছেন অনেক চেষ্টায়। তবে সেখানেও অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। টাকা পয়সার অভাব কেরির পোশাকে ছিল স্পষ্ট। তার একমাত্র ভালো লাগার জায়গা ছিল গ্রন্থাগার। সেখানে পড়তে ভালোবাসতো কেটি।

একটা সময় এই পড়ার অভ্যাস থেকেই লেখালেখি শুরু করা ও লেখক হওয়া। টাকার অভাবও দেখেছেন একটা সময়। তবে ছোটবেলার দারিদ্রতাজনিত সমস্যার কারণেই কিনা, এখনো টাকার হিসাবটা ঠিকমতো রাখতে পারেন না কেটি। অনেকগুলো টাকা আয় করলেও কোনো না কোনোভাবে তার টাকা অনেক আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই একটি ফিনান্সিয়াল টেকনোলজি স্টার্ট-আপের তৈরি করা Revolut অ্যাপ ব্যবহার করা শুরু করেন তিনি।  

একে অন্যের কাছে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজ হওয়ায় মানুষ এসব দেশে অ্যাপগুলো ব্যবহার করছেন ;Image Source: static.highsnobiety.com

এই অ্যাপ তাকে প্রতিদিনের টাকা পয়সা নিয়ে করা চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছে অনেকটা। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা জমানোর উপায় রয়েছে। আছে বিদেশ থেকে বিনা খরচে টাকা তোলার উপায়ও। একজন মানুষ কতটা টাকা খরচ করছেন সেটাও জানা যাচ্ছে অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে। গত বছর ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী এই ফিন্যান্স অ্যাপ মোট ৩.৮ বিলিয়ন সংখ্যকবার ডাউনলোড করা হয়েছে। তিন বছর আগে এই ডাউনলোডের পরিমাণ যা ছিল তার চাইতে এখন ৭৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

খুব সহজেই বলে দেওয়া যায় যে, এই ধরনের অ্যাপগুলোর পরিচিতি দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে, ব্রাজিল, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বাজারে অ্যাপটি বেশি কাজ করছে। মূলত, একে অন্যের কাছে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজ হওয়ায় মানুষ এসব দেশে অ্যাপগুলো ব্যবহার করছেন। ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী ডাউনলোড হওয়া মানি অ্যাপগুলোর মধ্যে অন্যতম তিনটি হলো ভারতের গুগল পে ও ফোন পে এবং চীনের আলিপে। এছাড়া চীনের উইচ্যাটেও এক্ষেত্রে বেশ ভালো করছে। এদের সবগুলোতেই টাকা পাঠানোকেই সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  

২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী ডাউনলোড হওয়া মানি অ্যাপগুলোর মধ্যে অন্যতম তিনটি হলো ভারতের গুগল পে ও ফোনপে এবং চীনের আলিপে; Image Sourcemedia.brstatic.com:

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮-৩৭ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে শতকরা প্রায় ৯২ শতাংশ মানুষ ফিন্যান্স অ্যাপ ব্যবহার করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি তারা ব্যবহার করে কতটা খরচ হচ্ছে সে সম্পর্কে জানার জন্য ও বিল পরিশোধ করার জন্য। হ্যাঁ, এই অ্যাপগুলো বেশ উপকারী। কিন্তু প্রশ্ন তবুও থেকেই যায়। আমরা কতটা খরচ করছি ও কতটা টাকা জমাচ্ছি, সেটার উপরে অ্যাপগুলো কি কোনো প্রভাব রাখে? খুব কংক্রিট কোনো উত্তর এক্ষেত্রে দেওয়া সম্ভব না হলেও ফিনটেক ফার্ম মেনিগার চিফ একজিকিউটিভ জর্জ লুডভিক্সনের মতে, এই ফিন্যান্স অ্যাপ ব্যবহারকারীরা আগের চাইতে তুলনামূলকভাবে ৬-১২ মাসের মধ্যে অন্তত ৭ শতাংশ কম খরচ করেন।

তবে নিজের খরচ সম্পর্কে এই অত্যাধিক সচেতনতা অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাবও রাখতে পারে বলে জানান জর্জ। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানান যে, একজন মানুষ যতবার খরচ করছে ততবার সেটি লক্ষ্য করলে খুব প্রয়োজনীয় কিছু কিনতে গেলেও মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়ে। আমরা কীভাবে ও কতটা খরচ করছি সেটা এই অ্যাপ বদলে দিতে পারে। তবে এর উল্টো একটি ব্যাপারও ঘটে ফিন্যান্স অ্যাপ ব্যবহার করলে। অ্যাপের মাধ্যমে টাকা খরচ ও বহন করা অনেক সহজ হওয়ায় কোনো না কোনো সময় কোনো কারণ ছাড়াই আমরা অনেক টাকা খরচ করে ফেলি।

কখনো কখনো অ্যাপের উপরে নির্ভরতা আমাদের খরচ করার অভ্যাসকে খারাপ করে ফেলে ;Image Source: prnewswire2-a.akamaihd.net

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী যে ব্যক্তিরা মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করেন তারা কোনো না কোনো একটা সময় গিয়ে অতিরিক্ত খরচ করে ফেলেন। যেটা কিনা অ্যাপ যারা ব্যবহার করেন না তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম হয়। কখনো কখনো অ্যাপের উপরে নির্ভরতা আমাদের খরচ করার অভ্যাসকে খারাপ করে ফেলে। আসলেই তো, কখনো কি ভেবেছেন যে, আপনার পেমেন্ট অ্যাপ আপনাকে বেশি খরচ করে ফেলার জন্য প্রভাবিত করছে কিনা? কী করতে পারেন আপনি এক্ষেত্রে?

সমাধান হিসেবে আপনি যদি কোনো মানি পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করতে শুরু করেন সেক্ষেত্রে সেটাকে পুরোপুরি ব্যবহার করুন। এটা নিশ্চিত করুন যে, আপনার মানি অ্যাপ আপনাকে আগের খরচ সম্পর্কে পুরোপুরি জানাচ্ছে। যেমন যুক্তরাষ্ট ও কানাডার Mint.com আপনাকে খুব সহজেই যেকোনো খরচের জন্য বাজেট তৈরি করে দেবে। একইসাথে এর আগে আপনি কতটা খরচ করেছেন সেটার তালিকা দেখাবে। ফেসবুকে কোনো প্রচারণার জন্য যে খরচ করতে হয় ব্যাপারটি তেমন হলে আরো ভালো। যেখানে আপনি পরিষ্কারভাবে জানতে পারবেন এবং পড়তে পারবেন, ঠিক কোন জিনিসটির উপরে আপনি টাকা খরচ করছেন।

এটা নিশ্চিত করুন যে, আপনার মানি অ্যাপ আপনাকে আগের খরচ সম্পর্কে পুরোপুরি জানাচ্ছে; Image Source: skraps.io

আপনার খরচ যদি বেশি হয়ে যায় তাহলে যেন অ্যাপ আপনাকে সাবধান করে দেয় সেটাও নিশ্চিত করুন। প্রতিটি জিনিসের ইতিবাচক ও নেতিবাচক- দুই দিকই থাকে। আপনি যদি উপকারী কোনো অ্যাপ সঠিকভাবে ব্যবহার করেন তাহলে আপনার খরচ বাঁচবে। অন্যথায়, এটিই আপনার খরচ বাড়িয়ে দেওয়ার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই অ্যাপ ব্যবহার করুন তবে, অন্ধভাবে নয়, অবশ্যই সতর্কতার সাথে!

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments