in

যেভাবে চিকিৎসা প্রযুক্তির সাহায্যে গড় আয়ুষ্কাল ১০০ ছাড়াবে


যেভাবে চিকিৎসা প্রযুক্তির সাহায্যে গড় আয়ুষ্কাল ১০০ ছাড়াবে

Gadgets

October 10, 2019

October 11, 2019

Jannatul Naym Pieal

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তাই এর পেছনে অর্থ বিনিয়োগকে অনেকেই দারুণ লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে খাতটিকে সম্ভাব্য লাভের তালিকায় একেবারে উপরের দিকে রাখা হচ্ছে, সেটি হচ্ছে চিকিৎসা প্রযুক্তি।

কোনো মানুষই চায় না এত সুন্দর পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মেই মানুষকে একদিন না একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতেই হবে। কেননা গত কয়েক শতক ধরে অমরত্বের সন্ধানে শত-সহস্র বিনিদ্র রজনী পার করে দেয়ার পরও, সফলতার দেখা পাননি বিজ্ঞানীরা। তবে অমরত্ব লাভ সম্ভব না-ই বা হোক, মৃত্যুর আগমনকে খানিকটা বিলম্বিত করে দেয়া তো যেতেই পারে। আর সেটি করতে পারে চিকিৎসা প্রযুক্তি

মানুষের জীবন থেকে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুকে বিলম্বিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা প্রচুর পরিমাণ অর্থ ঢালছেন। অর্থের পরিমাণটা ঠিক কত? ওয়াল স্ট্রিটের অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগ বিষয়ক ব্যাংক, ব্যাংক অফ আমেরিকার (বিঅফএ) তাদের এক সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফলে বলছে, ২০২৫ সাল নাগাদ নাকি চিকিৎসা প্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারিত হবে যে, তার মূল্যমান ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলকও ছাড়িয়ে যাবে।

ক্রমোন্নতি ঘটছে চিকিৎসা প্রযুক্তিতে; Image Source: BioSpectrum India

গবেষকরা বলছেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে থাকা ইলুমিনা কিংবা অ্যালফাবেটের মতো কোম্পানিগুলো খুব শীঘ্রই মানুষের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি ও জীবনের গুণগত মানের উন্নতিতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে। তারা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে এমন অভাবনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাবে যে, একজন গড়পড়তা স্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষের পক্ষেও ১০০ বছর দিব্যি বেঁচে থাকা সম্ভব হবে।

প্রথমবার শুনে মানুষের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির এই সম্ভাবনাকে অবাস্তব কল্পনা বলেই মনে হতে পারে অনেকের। কিন্তু পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বেশ ভালোভাবেই আমরা বুঝতে পারব, চিকিৎসা প্রযুক্তি আসলেই কীভাবে মানুষের জীবনের মেয়াদকে অবিশ্বাস্য মাত্রায় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এক শতক আগে, ১৯২০’র দশকেও যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ুষ্কাল ছিল ৫৫ বছরের নিচে। অথচ ২০১০’র দশকেই সেটি প্রায় ২৫ বছর বেড়ে গিয়ে ৮০ ছুঁই ছুঁই করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের গড় আয়ুষ্কাল; Image Source: National Center for Health Statistics

আরো জানিয়ে রাখা ভালো, ইতিমধ্যেই চিকিৎসা প্রযুক্তির বাজার কিন্তু বেশ বড়, পুরো ১১০ বিলিয়ন ডলার যার মূল্যমান। আগামী ছয় বছরের মধ্যে তা পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়া, এবং তার মাধ্যমে মানুষের জীবনে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীয় ন্যায় উন্নতি ঘটার ক্ষেত্রে পাঁচটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে গবেষণা দলটি — জিনোমিকস, বিগ ডেটা/কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ খাদ্য, “অ্যামোর্টালিটি” এবং “মুনশট মেডিসিন”।

জিনোমিকস

জিনোমিকস, কিংবা মানব জিনোম বিষয়ক বিজ্ঞান, ২০২৫ সালের মধ্যে একটি ৪১ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের শিল্পে পরিণত হতে চলেছে। ভাবা হচ্ছে, এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি যেকোনো রোগের অগ্রিক প্রতিষেধক ও পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

জিনোমিকস; Image Source: Cold Spring Harbor Laboratory

৪৬ বিলিয়ন ডলারের জিনোম সিকুয়েন্সার ইলুমিনা, ২৭ বিলিয়ন ডলারের ল্যাবে ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি উৎপাদক এজিলেন্ট এবং ৮৯ বিলিয়ন ডলারের প্রাণ বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি নির্মাতা ডানাহার, সকলেই এই শিল্পকে দাঁড় করাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে ইলুমিনা কোনো রোগের অগ্রিম প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য গবেষণা, ঔষধের উন্নয়ন এবং মলিকুলার টেস্ট সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিগ ডেটা/কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত স্বাস্থ্য

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যেমন ক্রমোন্নয়ন ঘটে চলেছে, ঠিক তেমনই স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মজুদও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মাধ্যমে গবেষকদের পক্ষে প্যাথোলজি বিশ্লেষণ, কিংবা কোনো রোগের কার্যকারণ ও প্রভাব বিষয়ক গবেষণা চালানো সহজ হচ্ছে। এই প্রযুক্তিতে যখন আরো উন্নতির ছোঁয়া লাগবে, তখন সামগ্রিকভাবে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ঔষধ নির্ধারণে খরচের পরিমাণ অনেকাংশেই কমে যাবে।

২০২৫ সাল নাগাদ এক্ষেত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। আর উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে থাকলে গুগলের মালিকানাধীন অ্যালফাবেট, অ্যামাজন ও অ্যাপল।

ভবিষ্যৎ খাদ্য; Image Source: Stylus

ভবিষ্যৎ খাদ্য

ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মূল লক্ষ্য থাকবে “আরো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পৃথিবীর বুকে মানবজাতির অস্তিত্ব আরো টেকসই করা”। ডোউ ডিউপন্ট এবং ডব্লিউ ডব্লিউ ইন্টারন্যাশনালের মতো কোম্পানিগুলো হবে এ খাতের বড় খেলোয়াড়। তাদের কার্যক্রম হবে কৃষিক্ষেত্রে জিন সম্পাদনা থেকে শুরু করে মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রা ও ভোগাভ্যাস গড়ে তোলা পর্যন্ত বিস্তৃত।

অ্যামোর্টালিটি

সবচেয়ে দামি থিম হিসেবে ধরা হচ্ছে এই অ্যামোর্টালিটিকেই, যার মূল্যমান ২০২৫ সাল নাগাদ হবে ৫০৪ বিলিয়ন ডলারের মতো। এই থিমের অন্তর্গত রয়েছে বিভিন্ন পরিধানযোগ্য (ওয়্যার‍্যাবল) প্রযুক্তি ও পণ্য, যেগুলোর মাধ্যমে মানুষের সুস্বাস্থ্যের মেয়াদ ও গড় আয়ুষ্কাল দুই-ই বাড়ানো সম্ভব হবে। এগুলো হয়তো মানুষকে অমরত্ব দেবে না, চিরকাল বাঁচিয়ে রাখতেও পারবে না, কিন্তু নিঃসন্দেহে এগুলো অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশিকাল ব্যাপী মানুষকে রোগমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।

ব্যাংক অফ আমেরিকার দেয়া সংজ্ঞা অনুসারে যেসব কোম্পানি অ্যামোর্টালিটির প্রতিনিধিত্ব করছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ইন্টিউটিভ সার্জিকাল ও জিমার, যারা অ্যাপল ওয়াচের সাথে কাজ করে ১০,০০০ জন হাঁটু ও কোমর সংস্থাপনের রোগীকে নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে।

অ্যাপল ওয়াচ; Image Source: Mashable

মুনশট মেডিসিন

মুনশট মেডিসিন কোম্পানি বলতে বোঝায় সেইসব কোম্পানিকে, যারা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বৈপ্লবিক সব সমাধান নিয়ে আসছে। এদের মধ্যে রয়েছে পূর্বোল্লিখিত ইলুমিনাসহ অন্যান্য জিনোমিকস কোম্পানি এবং আরো কিছু থেরাপি নির্মাতা যেমন সাংগামো, ভারটেক্স ফার্মা এবং নিউরোক্রিন।

এই কোম্পানিগুলো কাজ করছে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দুরূহ ও কঠিন কিছু রোগ যেমন সিস্টিক ফাইব্রোসিস, পার্কিনসন ও আলঝাইমার রোগ প্রভৃতির প্রতিষেধক ও চিকিৎসা নিয়ে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments